ঘরে বসে নিজেই চুলে কালার করবেন যেভাবে

চুলে নানা রঙের খেলা এখন বেশিরভাগ তরুণীরই পছন্দ। যেকোনো উৎসবের আগে চুলটাকেও রাঙিয়ে নেয়া হালের ট্রেন্ড। এখন কথা হলো, আপনি গোটা চুল রং করুন বা রুট টাচ আপই করুন, দুটিই বেশ খরচ আর সময়সাপেক্ষ বিষয়। এরচেয়ে ভালো হয়, যদি নিজের চুলটা নিজেই রাঙিয়ে নিতে পারেন। জেনে নিন সময় ও খরচ বাঁচিয়ে কিভাবে পার্লারের মতোই রঙিন চুল পাবেন-

মনের মতো রং: যখন চুলে রং করার কাজটা নিজেকেই করতে হচ্ছে তখন বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করতে যাওয়াই ভালো। আপনার চুলের এখন যে রং, তার কাছাকাছি কোনো একটা শেড বেছে নিন। প্রথমে চুলের রঙের সবচেয়ে কাছের রংটা খুঁজে বের করুন, তারপর হয় এক শেড গাঢ় বা এক শেড হালকা রং কিনুন।

রং কিনবেন দুই বক্স: চুল রং করতে বসে মাঝপথে হেয়ার কালার শেষ হয়ে গেলে সেটা বেশ ঝামেলার। আপনার চুল যদি কাঁধ পর্যন্ত বা তার চেয়ে বেশি লম্বা হয়, তা হলে ঝুঁকি না নিয়ে দুই বক্স রং কিনে রাখুন। যা বেঁচে যাবে, পরেরবার ব্যবহার করতে পারবেন।

আগে টেস্ট করে নেবেন: আগে টেস্ট করে নিতে ভুলবেন না। বিশেষ করে নতুন কোনো শেড লাগানোর আগে তো নয়ই। ভেতর দিকের চুলের খানিকটা অংশে রংটা লাগিয়ে দেখে নিন। অথবা অল্প একটু চুল কেটে নিয়ে আগে তাতে রংটা লাগিয়ে দেখুন মানাচ্ছে কিনা। ফল সন্তোষজনক হলে তবেই পুরো চুলে লাগানো শুরু করুন।

পোশাকের খেয়াল রাখবেন: চুলে রং করার আগে পুরোনো কোনো পোশাক গায়ে গলিয়ে নিন, যা রং লেগে নষ্ট হয়ে গেলেও আপনার দুঃখ হবে না। যেখানে বসে চুল কালার করছেন, সেই জায়গাটাতেও মেঝেতে বা বেসিনে চটের ব্যাগ বা খবরের কাগজ বিছিয়ে নেবেন।

ত্বক সুরক্ষিত রাখুন: চুল রং হয়ে যাওয়ার পরে যদি কিছু রং কানের পিছনে বা কপালে লেগে থাকে, তবে তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই চুল কালার করতে শুরু করার আগে হেয়ারলাইনে, কানে, কানের পিছনে, ঘাড়ে মোটা করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন যাতে রং ত্বকে বসে না যায়।

সব সরঞ্জাম সাজিয়ে নিন: চুল রং করার আগে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সামনে গুছিয়ে নিয়ে বসুন। আর হ্যাঁ, রং করতে শুরু করার আগে কালার বক্সের গাইডলাইন মন দিয়ে পড়ে নেবেন।

‘কাস্টম কালার’ তৈরি করার ঝুঁকি নেবেন না: দুটো আলাদা হেয়ার কালার মিশিয়ে নতুন শেড তৈরি করা পেশাদার হাত ছাড়া সম্ভব নয়। তাই নিজে নিজে সেই এক্সপেরিমেন্ট না করতে যাওয়াই ভালেঅ। বরং যে রংটা আপনার ভালো লাগছে সেটাই বেছে নিন, তবে লাগানোর আগে অবশ্যই টেস্ট করে নেবেন।

যেভাবে করবেন: প্রথমে পুরো চুলটাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। তারপর একেকটা ভাগ খুলে ব্রাশ দিয়ে প্রতিটা গোছার গোড়া থেকে রং লাগাতে শুরু করুন। ব্রাশের মুভমেন্ট গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত হওয়া চাই। পুরো চুলেই এভাবে রং লাগিয়ে নিন। দেখার সুবিধার জন্য সামনে আর পিছনে দুটো আয়না নিলে ভালো হয়! পুরো চুল রং হয়ে গেলে একটা শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন যাতে রং না গড়ায়। যতক্ষণ পর্যন্ত রাখতে বলা হয়েছে, ততক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে নিন।

রং হালকা হতে দেবেন না: চুলের রং দ্রুত ফিকে হয়ে যাওয়া আটকাতে চড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। রোদে যাওয়ার সময় ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢেকে রাখলে রং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

Related posts

Leave a Comment