ওয়ানডে অধিনায়কত্বের লড়াইয়ে সাকিবের প্রতিদ্বন্দ্বী তামিম!

বিদায়ের সুর বেজেছে আগেই। বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে সেই সুরে যোগ হয়েছে আরও অনেক বাদ্যযন্ত্র। তাতে মাশরাফি বিন মুর্তজার ওয়ানডে থেকে বিদায় নেয়াটা যেন হয়ে উঠেছে সময়ের দাবি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়ক বিদায় বলার জন্য একটু সময় চেয়ে এখন বিপাকে! বিদায় বলতে যেন কালক্ষেপণ না করা হয়, ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক ইঙ্গিতই দেয়া হচ্ছে মাশরাফিকে।

এখন অথবা কদিন পরে, ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেবেন মাশরাফি; সেটা সবারই জানা। তাই ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই মাথায় নিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাশরাফি অবসর নিলে কে হবেন ওয়ানডে অধিনায়ক? অনেকেই হয়তো কিছু না ভেবেই বলে দেবেন, কেন সাকিব আল হাসান আছে তো! বিস্ময় এখানেই, ওয়ানডেতে সাকিবকে অধিনায়ক হিসেবে ভাবা হচ্ছে না। তামিম ইকবালের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে ওয়ানডের দায়িত্ব।

অধিনায়কত্ব পালনের সামর্থ্যে তামিমের চেয়ে সাকিব অনেক এগিয়ে, এটা পরীক্ষিত। দলের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নেয়া বা মাঠে কৌশল প্রয়োগের দিক থেকে অধিনায়ক সাকিব সব সময়ই এগিয়ে তামিমের চেয়ে। তবু কেন সাকিবকে এড়িয়ে তামিমকে ওয়ানডে অধিনায়ক করার কথা ভাবছে বিসিবি, এমন প্রশ্ন উঠে যাওয়া অবান্তর নয়। এখানে বিসিবির উচ্চ মহলের কর্তাদের ভাবনাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

একজনের হাতে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব দিতে চান না তাঁরা। মূল ভাবনা এটাই। যে কারণেই তামিমকে ওয়ানডের অধিনায়ক করার ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেছে বিসিবি। সাকিব বর্তমানে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বে দিচ্ছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের কাঁধে এই দুই ফরম্যাটের দায়িত্বই রাখতে চায় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তিন ফরম্যাটে একজনকে অধিনায়ক করা যাবে না, এটা বিসিবির পূরনো ভাবনা। এর প্রমাণ অতীতেও মিলেছে। মুশফিকুর রহিমের কাঁধে তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব দিয়েই হয়তো শিক্ষা হয়ে গেছে বিসিবির! এবার তাই সাকিবকে দুই ফরম্যাটে অধিনায়ক রেখে বাকি ফরম্যাটের দায়িত্ব অন্য একজনের হাতে তুলে দিতে চায় বিসিবি। আর এই দৌড়ে তামিমের নামটিই জোরোসোরে শোনা যাচ্ছে।

অধিনায়ক হিসেবে দেশসেরা এই ওপেনার কেমন করবেন, সেটারই ‘এক্সপেরিমেন্ট’ হিসেবে শ্রীলঙ্কা সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তাঁর কাঁধে তুলে দেয়া হয়েছে অধিনায়কত্ব। এই তিন ম্যাচে ব্যাটসম্যান তামিমকে নয়, অধিনায়ক তামিমকে দেখবে বিসিবি। পরীক্ষায় ভালো মার্ক নিয়ে পাশ করে ফেললে ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকেই। তবে সেটা মাশরাফির অবসরের পর।

শ্রীলঙ্কা সিরিজে যাওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন ওয়ানডের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। অনুশীলনে চোট না পেলে এই সিরিজে তিনিই থাকতেন নেতৃত্বে। কিন্তু বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিং চোট তাঁকে ছিটকে দিয়েছে। পরের দিনই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দলের দেশ ছাড়ার তাড়া থাকায় দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বিসিবিকে। যেখানে যোগ্য হিসেবে তামিম ইকবালের নাম বিবেচিত হয়েছে।

যদিও গুঞ্জন আছে, মুশফিককে অধিনায়কত্ব করার কথা বললেও তিনি নাকি রাজি হননি। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজের নামটিও ছিলো আলোচনাতে। কিন্তু সিরিজের গুরুত্ব ও মিরাজের স্বল্প অভিজ্ঞতা এখানে বাধা হিসেবে কাজ করেছে। ‘অপশন’ হিসেবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথাও ভাবতে পারতো বিসিবি। কিন্তু সাকিবের অনুপস্থিতিতে গত বছর অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মাহমুদউল্লাহকে নাকি নেতৃত্ব ইস্যুতে সেভাবে বিবেচনাই করা হয়নি।

তামিমকে ওয়ানডের নেতৃত্বের জন্য ভাবা হলেও অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিন ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে আবারও টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে ফিরেছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নেতৃত্ব দিয়েও সফল হয়েছেন সাকিব। বিপিএলের ২০১৬’র আসরে তাঁর নেতৃত্বেই শিরোপা জেতে ঢাকা ডায়নামাইটস।

এদিক থেকে সাকিবের সঙ্গে তামিমের তুলনা একেবারেই বেমানান। বাংলাদেশ দলকে একবারই নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ওপেনার। মুশফিকুর রহিমের চোটের কারণে একটি টেস্টে অধিনায়কত্ব করতে হয়েছিল তামিমকে। ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দিতে যাওয়া তামিমের ওটাই একমাত্র অভিজ্ঞতা।

বিপিএলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করলেও তামিমের নামের পাশে যোগ হয়নি চৌকস বা কৌশলী জাতীয় শব্দ। অধিনায়ক হিসেবে জিততে পারেননি শিরোপাও। বিপিএলের শিরোপা অবশ্য ছুঁয়ে দেখেছেন তিনি, তবে সেটা ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে। সব মিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবে তামিমের নাম আলোচনায় থাকাটাই এক প্রকার বিস্ময়। তবু তামিমের ওপর আস্থা রাখার কথা ভাবছে বিসিবি- এটা আরও বড় বিস্ময় না হয়ে উপায় কী!

Related posts

Leave a Comment